"সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সবাইকে নামাজের প্রতি যত্নশীল হতে হবে"
নুরুল কবির আরমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নামায ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ইসলামের পাঁচটি স্তম্বের দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে নামায। নামায জান্নাতের চাবি। নামায মানুষকে সকল প্রকার অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সবাইকে নামাযের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
কিয়ামতের কঠিন দিবসে সর্বপ্রথম যে এবাদত নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে ঐ এবাদতের নাম নামাজ। রাসূলের ৬৩ বছর জীবনের সর্বশেষ কথা নামাজ।
গতকাল ১৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম আনোয়ারার অন্তর্গত দৌলতপুর বিসমিল্লাহ একতা ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির আলোচনায় হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী একথা বলেন।
মাওলানা নিজামপুরী আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে প্রায় ৮২ বার নামাযের কথা উল্লেখ করেছেন। এক হাদিসে হুজুর সা. বলেছেন, মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায। আজ আমরা নামাযের প্রতি কোন প্রকার গুরুত্ব দিই না! অথচ, এক ওয়াক্ত নামায ইচ্ছে করে কাযা করলে ২কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে!
নামায সম্পর্কে মাওলানা নিজামপুরী বলেন, আজ আমাদের দেশে ধর্ষণ, ব্যভিচার, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, পারিবারিক কলহ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যত বিপর্যয় ও অপরাধ হচ্ছে এর প্রায় সবগুলোই নামায ছেড়ে দেয়ার কারণে। নামায ত্যাগ করার কারণে মানুষকে বিভিন্ন অপকর্ম ও পাপাচারে লিপ্ত করে। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ের মূল কারণ হল নামাজ ত্যাগ করা।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর'।
তিনি বলেন, একদিকে চারিত্রিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবক্ষয় অন্যদিকে দেশের মানুষের ঘামার্জিত টাকা দিয়ে দেশের প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে ভাস্কর্য বসিয়ে দেশকে মূর্তিরাজ্যে পরিনত করতে চাই নাস্তিক্যবাদীরা। ইসলামবিদ্ধেষী নাস্তিকদের অপতৎপরতা রুখে দিতে হেফাজতে ইসলাম তথা দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ডাকে সাড়া দিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় দেশে ধর্ষণ-হত্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে।
মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী সবাইকে ইসলামে পূর্ণাঙ্গরুপে প্রবেশ করে নিজের জীবনকে রাসূল(সা.)-এর দেখানো পথে চলার আহবান জানান।


No comments