গুইমারায় জুয়া এবং শিলংতীরের টোপে সর্বস্ব হারাচ্ছেন এলাকার যুবকরা, বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা
বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি
গুইমারায় জুয়ার খপ্পরে পড়ে সব কিছুই বিলীন করে নিস্ব হচ্ছেন যুবকরা, এর ফলে বেকার হয়ে পড়ছেন অনেকেই, কেউবা চলে গেছেন মাদক, সর্বনাশা ইয়াবাসহ বিভিন্ন অপরাধ জগতে।
হযরত আলী, পেশায় ছিলেন একজন সহজসরল কৃষক। গুইমারায় বড়পিলাক এলাকায় তার বসবাস। কৃষিকাজ করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ভালোই দিনাতিপাত যাচ্ছিলো তার। কিন্তু তার সুখের দিনে বাধ সাজে সর্বনাশা শিলং তীর। লোভ দেখায় তাকে দশ টাকার বিনিময়ে আটশত টাকা পাওয়ার। তিন চারবার খেলার পর পেয়ে ও যায় সে। একপর্যায়ে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে তার। কৃষিকাজ বাদ দিয়ে জুয়া খেলছেন কেন? এই প্রশ্নের জবাবে তার উত্তর " কৃষিকাজ করে লাভ কি এখানে দশ টাকায় পাই আটশত টাকা, আবার আরও বেশি দিলে পাই বেশি" এরপর আরও বাড়তি পাওয়ার জন্য আরও বেশি টাকা ইনভেষ্ট করে সে, কিন্তু দূর্ভাগ্য, ধীরে ধীরে সর্বস্ব হারান তিনি।
হযরত আলীর মত বড়পিলাক গ্রামে শতশত পুরুষ মহিলা জড়িয়ে পড়ছেন শিলং তীরের ভয়াবহ থাবায়। কেউ কেউ সামান্য পরিমান লাভবান হলেও পথের ফকির হয়ে মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে।
অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু চক্র’কে ম্যানেজ করে এ জুয়া খেলা চলে আসছে। এই জুয়া প্রচলনের প্রথম দিকে এলাকার বেকার বা আড্ডাবাজ তরুন যুবকদের টার্গেট করা হলেও বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও নারীরা আসক্ত হয়ে পড়েছেন এ খেলায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসার সময় টিফিনের টাকা শীলংয়ের বাজিতে রেখে আসছে লাভের আশায়।
কিছু সূত্রে জানা যায়, গেলো বেশ কিছু দিন ধরে গুইমারা এলাকার আনাচে কানাচে এই জুয়া খেলা চলছে। মাঝে প্রশাসনের বেশ তৎপরতায় কিছু দিন কমে ছিলো। গত দুই মাস বটতলী এলাকার নতুন এজেন্টের মাধ্যমে বেশ জোরালো পরিসরে চলছে এ জুয়াটি।
খেলোয়াড়দের একটি নির্দিষ্ট সূত্রমতে, আগে শুধুমাত্র গুইমারা উপজেলাতেই শীলং এর দৈনিক খেলা হত ২-৩ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ৬-৭ লক্ষ টাকার খেলা হচ্চে দৈনিক।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, জুয়ার কারনে যুব সমাজসহ সকল শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ‘শীলং তীর’ জুয়া বন্ধ হওয়ার দরকার।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ পাঁকি দিতে গুইমারার বড়পিলাক, রামসুবাজার, আমতলীপাড়া, মুসলিমপাড়া, বুধংপাড়া ছংখলাপাড়া, তৈকর্মা, সাইংগুলীপাড়া এলাকার দোকান, পরিত্যক্ত বা করোনার কারনে বন্ধ স্কুল কিংবা বসতবাড়িতে ও এই খেলার পসরা বসিয়ে থাকেন এজেন্টরা। ইমু বা হোয়াটসএপ এর এপস ব্যাবহার করে থাকেন তারা। দুপুর ১:০০টা থেকে বিকাল ৪:০০ টা আবার, রাত ৯:০০ থেকে ১১:০০টা এই সময়েই শিলং এর ড্র হয় বলে যানা যায়।


No comments